সাম্য (Equality!

স্বাধীনতার মতো সাম্যের আদর্শ যুগ যুগ ধরে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে মানুষকে অনুপ্রাণ করেছে। কিন্তু ফ্রাঞ্চ ঠাকুরদাস (Frank Thakurdas) সাম্যের ধারণাকে একটি 'বহুমাত্রিক ধারণা' ' dinumamal concept] বলে চিহ্নিত করেছেন। কারণ, সামোর ধারণার মতো এত 'কৌতূহল সৃষ্টিকার (amiguing) ও 'বিধান্তিকর' (talling) অন্য কোনো ধারণার অস্তিত্ব চোখে পড়ে না। বার্কারের মাং সাম্যের রায়গা হল এমন 'একটি পরিবর্তনশীল ধারণা' (alProtwan notun"), যা অতি সহজেই তার আব্দ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করতে সক্ষম।

অর্থ(Meaning)

আপাতদৃষ্টিতে সাম্য বলতে বোঝায় সকলেই সমান। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাম্য বলতে সব বিষয়ে সমরাও অভিন্নতাকে বোমায় না বলে অধ্যাপক ল্যাপ্তি মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, সাম্য বলতে বোঝায় ১ বিশের সুযোগসুবিধার অনুপস্থিতি (absence of special privilege) এবং সকলকে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধ (adequate opportunity) প্রদান। প্রথমটি হল দাম্যের নেতিবাচক দিক এবং দ্বিতীয়টি হল ইতিবাচক দিক, ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কারণেই মানুষের দালি, সামর্থ্য ও প্রয়োজনের ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই ল্যায়ি মন্তব্য করেছেন যে, মানুষের অভাৎ, যোগ্যতা ও প্রয়োজনের মধ্যে যতদিন পার্থক্য থাকবে, ততদিন ব্যবহায়ে ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না। একজন রাজমিস্ত্রি কখনোই সমাজের কাছ থেকে একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়াে সমান মর্যাদা ও স্বীকৃতি দাবি করতে পারে না। রাষ্ট্র উভয়কে সমমতীল ও সমান স্বীকৃতি প্রদান করলে প্রতিভা বিকাশ ঘটবে না এবং সমাজের অ্যাপতিও ব্যাহত হবে। সুতরাং, সামোর সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে একথা দিবালোক্সে মতোই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সাম্য বলতে কখনেছি সমান ব্যবহার (equal treatment) বা ব্যবহারের অডিয়ায় (identical treatment)-কে বোঝায় না। যোগ্যতা, দক্ষতা ও ক্ষমতার দিক থেকে মানুষের সঙ্গে মানুষের পার্থব থাকায় রাষ্ট্র বা সমাজের কাছ থেকে তারা কখনোই সমান ব্যবহার বা স্বীকৃতি দাবি করতে পারে না।

প্রকৃতি (Nature)

অধ্যাপক ল্যাছি (১) নেতিবাচক এবা ২। ইতিবাচক এই দু-দিক থেকে সাম্যের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি নিবার করেছেন। এছাড়া, (৩) মার্কসবাদীরাও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন।

পচিনাচক অর্থে সাম্য:

 নেতিবাচক অর্থে সাম্য বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্পত্তি, লিঙ্গ প্রভৃতির ডিজিটেকোনোরকম বৈষম্য না-করাকে বোঝায়। কারণ, এগুলির ভিত্তিতে বৈষম্য করার অর্থই হল ব্যক্তিঃ সা প্রতিভার বিকাশের পথে প্রতিবশ্বকতা সৃষ্টি করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে, সাম্য হল নিলো দেশাত্রা ও দক্ষতা অনুযায়ী এফ-কোনো সরকারিপদে আসীন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি। তাই কোনো পা কাউকে কেপা উত্তরাবিকারসূত্রে বসতে দেওয়া হলে সাম্যের নীতিটি দলিত হয়। তবে সাম্যের না অনুযায়ী সমান যোগায়ার ভিত্তিতে স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে প্রত্যেকের সমান চাকুরি লাভের সুযোগ থাকলো কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে সংগত কারণেই তাদের মধ্যে পার্থতা নিরূপণ করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসো বলা যায়, সামরিক বাহিনী ও পুলিশের চাকুরিতে স্ত্রীলোক অপেক্ষা পুরষদের অধিক পছন্দ করা হয়। আগা রোগীর পরিচর্যার জন্য নার্স নিয়োগের সময় পুরুষ অপেক্ষা মহিলাদের অাবিকার সর্বক্ষন-বীকৃতি লাভ করেছে। এই ধরনের নিয়োগ সাম্যনীতির পরিপক্ষী নয়।

উটিবাচক অর্থে লামা:

 ইতিবাচক অর্থে 'শর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা প্রদানকেই সাম্য বলা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা এবং সমান সুযোগসুবিধা অভিন্ন ধারণা নয়। বেছেত্ব সব মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও সদি সমান নয় এবা তাদের প্রচেষ্টাও একই কানের হয় না, সেহেতু যাদের আত্মবিকাশের জন্য বিষ দি ধরনের সুযোগসুবিধার প্রয়োজন। তাই কেন ও পিটার্স মন্ডল করেছেন যে, ইতিবাচক সামা বলতে প্রত্যেকের আত্মবিকাশের উপযোগী যথাযথ' (appropriae) সুযোগসুবিধাকেই বেখান। বারাবও নামা বলতে সমজাতীয়তাকে বোথাননি। কারণ, সমজাতীয় আচার আচরণ সামর্থ্যের অবাধ বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। একটি উদাহরণের সাহায্যে তিনি বিষয়টিকে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা রয়েছেন। দৌড় শুরু করার পূর্বে সব প্রতিযোগী যেমন একটি সরলরেখায় দাঁড়ায়, তেমনি রাষ্ট্র কর্তৃক সুযোগশুবিধার সাহায্যে ব্যক্তিবর্গের সম্ভারা বিকাশের জন্য সবাইকে একই সরলরেখায় দাঁড়াতে হয়। সুতরাং, শুরুতে সাম্যের প্রয়োজন। কারণ, দনাই প্রদর সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে না। এক্ষেত্রে সকলকে সমান মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদানের অথই হল সাম্যের নীতিটিকে উপেক্ষা করা।

অর্কসবাদীদের দৃষ্টিতে সাম্য: 

মার্কসবাদীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্যের বিচন্দ্রবিশ্লেষণ করেছেন। যামা বলতে মার্কম বাজির স্বতন্ত প্রয়োজন এবং জীবনকে সমান করে দেওয়ার কথা কখনোই বলেননি। সাম্য বলতে তিনি সমাজের বুক থেকে শ্রেণিবিভাগ লোশের কথাই বলেছেন। অর্থাৎ ১৯। পুঁজিপতিদের উচ্ছেন ও অধিবানচ্যুত করার পর সব মেহনতি মানুষ সমানভাবে মুক্তি লাভ করবে, (০) উৎপাদনের উপাদানসমূহ সমগ্র সমাজের সম্পত্তিতে পরিণত হওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পত্তির অস্তিত্ব লোপ পাবে। ১২) নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার সমান কর্তব্য প্রত্যেকের থাকবে ও কাজের পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিটি মেহনতি মানুষ সমান পারিশ্রমিক পাবে। এবং (৫) সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করাকে প্রত্যেকে কর্তব্য বলে মনে করবে। মার্কসবাদীরা মনে করেন যে, বৈষম্যমূলক সমাজে কখনোই সাম্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। কারণ, উৎপাদনের উপকরণের মালিকরা সমাজে যেসব বিশেষ সুযোগসুবিধা পায়, সাধারণ মানুষ সেগুলি থেকে বঞ্চিত থাকে। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে লেনিন বলেছিলেন, "শোষক ও শোষিত এরা ভুরিভোজী ও ক্ষুধার্তদের মধ্যে সাম্যকে আমরা কখনোই স্বীকার করি না।"

বিচিত্র ৰূপ (Different Forms)

যোহতু বান্য হল একটি 'নহুমাত্রিক ধারণা', সেহেতু এর বিভিন্ন যুগ থাকছি স্বাভাবিক। সাম্যকে প্রধানত নিম্নলিখিত চার ভাগে ভাগ জরা যেতে পারে।ও কর্মবিও সান্য: স্বাভাবিক সামা (Natural Equality)-এর প্রবক্তারা মনে করেন যে, জন্ম থেকেই প্ররোতে স্বাধীন এবং সমানাধিকারসম্পন্ন। প্রাচীন গ্রিসের স্টোইক দার্শনিকরা সিসেরো (Clans), পলিবিয়াস (Pulybius) প্রমুখ রোমান চিন্তাবিদ, পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা এবং বুশো এপে সাম্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।

সাথডিও সাম্য: 

সামাজিক সাম্য (Social Equality) বলতে সামাজিক ক্ষেত্রে মানুষের সলো মানুষের সমতাকে বোঝায়। যখন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশমর্যাদল, অর্থ, প্রাভাব প্রতিপত্তি প্রভৃতির ভিত্তিতে মানুষের সঙ্গেল মানুষের পার্থক্য নিরূপণ করা হয় না, তখনই তাকে সামাজিক সাম্য বলে আখ্যা দেওয়া হয়। বার্কার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠাকে সামাজিক সাম্য বলে অভিহিত করেছেন। নাস-সমাজ ও সামন্ত-সমাজে এরপ সাম্যের অঙ্কিত্ব ছিল না। কিন্তু ধনতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সল্যে সঙ্গ্যে সমাজিক সাম্যের ধারণা প্রসাব লাজ করে।

অইৎসারত সাম্য: 

উনিশ ও বিশ শতকে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের হবত্বারা আইনগত সামা (Legal liquality) প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আয়োগ করেন। আইনগত সাম্য বলতে শুধমত দুটি জিনিসকে যেকার, হলা (a) আইনের দৃষ্টিতে নামা (kapuality before the Law) (b) আইন কর্তৃক সমভাবে সায়ক্ষিত হওয়ার অধিকার (Right to Equal Protection of Law)। আইনের দৃষ্টিতে সামোর অর্থ হল -
কোনো ব্যাপ্তিই আইনের উর্দো নয়। ক্ষমাতা, পদমর্যাদা ও অবস্থা নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তি সাধারণ আইনে 'অধীন এবং একই ধরনের অপরাতের জন্য দায়ী সব অপরাধী সম পরিমাণ শান্তি লাভ করবে। অপরদিছে আইন কর্তৃক সমভাবে রক্ষিত হওয়া বলতে বোঝায় সমপর্যানভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন সমনখার প্রযুক্ত হবে। আইনগত সামাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- ব্যাক্তিগত সামা, চন রাজনৈতিক সাম্য এবং (iii) অর্থনৈতিক সাম্য।
(i) সমাজের মধ্যে প্রতিটি বাক্তি সমানভাগে সামাজিক অধিকার ভোগের সুযোগ লাভ করলে আছে। ব্যক্তিগত সাম্য হতে অভিহিত করা হয়।
(ii) রাজনৈতিক সাম্য বলতে সরকার গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণের অধিকারত বোকায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, অর্থ, প্রভাব প্রতিপত্তি, লিলা প্রভৃতি নির্বিশেষে সকলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সরকারের কাছে অভাব-অভিযোগ শেশ, সরকারি কার্যের সমালোচনা করার সমান অধিকার প্রভৃতিতে রাজনৈতিক সাম্য বলা হয়।
(iii) বুজৌয়া তাত্ত্বিকরা আয় ও সম্পত্তির অধিকারের সমতাকে অর্থনৈতিক সামা বলে চিহ্নিত করেন। কিন্তু এরূপ অধিকার সমাজে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অসাম্যকেই ডেকে আনে। তাই ল্যাস্কি সকলের সম-পরিমাণ সম্পদ (equal wealth) রাখার অধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব অরোপ করেছেন। অর্থনৈতিক-সাম্য বলতে তিনি সকলের জন্য পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধাকেও কেনাচে চেয়েছেন।

আন্তর্জায়িক সাধ্য:-

                  সামোর নীতিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করাকে আন্তর্জাতিক সম (International Equality) বলা হয়। ক্ষুদ্রবৃহৎ, শক্তিধর শরিরীন ও সম্পদশালী সম্পদহীন রাষ্ট্রসমূহকে সমমর্যাদা প্রদান করা হলে এরুপ সাম্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।