আত্মসচেতনতার গুরুত্ব আলোচনা করো।
জিল, আত্মসচেতনতা মানে নিজের ব্যাপারে সচেতন হওয়া। অর্থাৎ নিজের ভালো-মন্দ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা। কিসে মঙ্গল আর কিসে অমঙ্গল সে ব্যাপারে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখা, ব্যক্তি কী কাজ করছে, কেন করছে, কোন উপায়ে করছে, কাজের ফলাফল কী, কাজটির কোনো নেতিবাচক দিক আছে কি না, কাজটির ফলে নিজের বা অন্যের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি না? এসব বিষয়ে নিজের উপলব্ধিকে আত্মসচেতনতা (Self-awareness) বলে।
যে মানুষ নিজেই নিজের ভুল-ত্রুটির বিচার করতে সক্ষম সেই আত্মসচেতন মানুষ। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন 'Know thyself' (নিজেকে জানা)। নিজেকে জানার অর্থ হলো নিজের গুণাবলি ও ত্রুটিপূর্ণ দিকসমূহ জানা এবং ত্রুটিসমূহ দূরীকরণের উপায়সমূহ জানা এবং নিজের উন্নয়নে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাওয়াকে বোঝায়। শুধু নিজের ভালো-মন্দ দিক জানলেই চলবে না, অন্যের ভালো-মন্দ বিবেচনা রাখাও আত্মসচেতনতা। নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং নিজের বিবেক-বুদ্ধি বিচার সম্পন্ন একজন আত্মসচেতন নারী। জগতের সকল সফল ব্যক্তিগণ ছিলেন আত্মসচেতন। এখানে একটা কথা বলে রাখা অনস্বীকার্য যে, যারা আত্মসচেতন, তারাই আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাবোধ-সম্পন্ন। তাদের মাধ্যমে সমাজে ক্ষতি হওয়ায় কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আত্মসচেতন থাকার গুরুত্ব অপরিসীম। আত্মসচেতন ব্যক্তি তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন, তারা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং ভবিষ্যত সম্পকে অনুমান করতে পারেন। ফলে তারা পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান। যদি তারা কখনো বিপদে পড়েন তাহলে তারা দ্রুত বিপদ সামলে নিতে পারেন। আত্মসচেতন ব্যাক্তিগণ যে কোন পরিবেশের পরিস্থিতি বুঝে ধীরে সুস্থে মোকাবিলা করতে পারেন। এখানে একটা উদাহরণের অবতারণা করা যেতে পারে, সেটা হলো "ধূমপান" বিষয়ক। এহজন ধূমপায়ী কখনও স্বার্থক উপায়ে আত্মসচেতন হতে পারেন না। একজন 'আদর্শ মা' তার সন্তানের সকল বিষয়ে সচেতন এবং নিজের বিষয়ে সচেতন।
ব্যক্তিজীবনে সচেতন থাকলে যে কোনো পর্যায়ে যে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। তাই কোনো ব্যক্তি ক্যারিয়ারের কোন সময়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ভালো হবে, তা বুঝতে পারে। অনেক সময় ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। গৃহীত সিদ্ধান্তটি সঠিক নাও হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সচেতন ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তা তাদের ক্যারিয়ারকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দেয়। আত্মসচেতন ব্যক্তিরা নিজেদের মূল্যায়ন নিজেরাই অর্জন করে থাকেন। ফলে তাদের পক্ষে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়ে যায়। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হলে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যায় না। তাছাড়া অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা মানুষকে তার নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে দূ রে ঠেলে দেয় এবং তারা স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। আত্মসচেতনতা অন্যের প্রতি নির্ভরশীল না হওয়ার শিক্ষা দেয়। আত্মসচেতন ব্যক্তিরা কখনো অন্যের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল থাকে না, এর সঙ্গে থাকতে হয় আত্মবিশ্বাস। সুতরাং আত্মসচেতন হওয়া ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


0 Comments