সহমর্মিতা:
এমপ্যাথির বাংলা প্রতিশব্দ হলো সহমর্মিতা। এটি হচ্ছে অনুভূতি সমবেদনা। সহমর্মিতা কী আর সহানুভূতি কী তা আলোচনা করা প্রয়োজন। একটি উদাহরণ হিসেবে বোঝানো হচ্ছে- যেমন আমাদের কোনো আত্মীয়কে সুখী দেখলে বা আনন্দিত দেখলে আমরা নিজেরাও আনন্দিত হই ঠিক তেমনি তাদের দুঃখ দেখলেও আমরা দুঃখ বোধ করি তাকে সমবেদনা বলে। তবে এমপ্যাথি অনেকটা ভিন্ন যেমন- কোনো ব্যক্তি যদি দুঃখজনক পরিস্থিতিতে পড়ে তার মধ্যে দুঃখের বেদনা প্রকাশ ঘটছে না। এই রকম অবস্থায় অন্য কোনো ব্যক্তি হলি পরিস্থিতিকে নিজেকে কল্পনা করে দুঃখ অনুভব করে এবং সেই দুঃখের প্রকাশ ঘটায় তাকে এমপ্যাথি বলে।
এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই অনুভূতি বোধ করে। আর অন্যের অনুভূতির বহিঃ প্রকাশের সঙ্গে একাত্ববোধ হয়। আর সমবেদনা বলতে বোঝায়, এখানে ব্যস্তিপ্ত কাল্পনিক ভাবে অপর ব্যক্তি যে অবস্থায় পড়েছে সেই ব্যক্তি নিজেকে সেই অবস্থায় দেখে অনুভূতি বোধ করে একটি উদাহরণ সহযোগে বোঝানো যেতে পারে- আপনি কোনো ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গেছেন। একজন দর্শককে দেখলেন তার সমর্থক দলের একজন খেলোয়াড় বারবার ১ রান করছে দর্শকটি তখন চিৎকার করে বলে উঠল 'আরো জোড়ে মার বলটাকে' দর্শকটি এখানে বোধ করছে। টেলিভিশনে সিনেমা দেখার সময় আমরা যখন নায়ক বা নায়িকার অভিনয়ের পরিস্থিতির জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দুঃখ আনন্দ অনুভূতি বোধ করি তাকে বলে সমবেদনা।
জীবন দক্ষতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এমপ্যাথি বা সহমর্মিতা অন্যদের গ্রহণ করতে বা সমর্থন করতে এমপ্যাথি আমাদের সাহায্য করে। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পন্ন মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক অভিযোজনে সহায়তা করে। এমপ্যাথির জন্যই আমরা একে অপরকে সাহায্য করি। এমপ্যাথির ফলেই আমরা ব্যাধিতে আক্রান্ত, মানসিক ব্যাধি প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করি ও বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ করি।
0 Comments