জীবন দক্ষতা শিক্ষার সংঞ্জা দাও ? জীবন দক্ষতা শিক্ষার এর গুরুত্ব লেখো ?

জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এমন একটি শিখন শেখানো অভিজ্ঞতা যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা সমূহ অর্জন করে।

 

জীবন দক্ষতা শিক্ষার এর গুরুত্ব লেখো ? Life Skill Education-এর গুরুত্ব লেখো।

অন্ত্রে জীবন দক্ষতা হচ্ছে অপরাপর ব্যক্তি ও সমাজের সাথে ব্যক্তির জীবন সম্পা কাজ ও সমস্যা সুচারুভাবে সম্পাদন এবং নিষ্পত্তির দক্ষতা। এই দক্ষতা একজ শিক্ষার্থীকে তার দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জকে সফলভাবে মোকাবেল করে যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম করে। এই দক্ষয় শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সকল শক্তি ও সম্ভাবনার বিকাশ ঘটিয়ে জীবনের সন্ধ ক্ষেত্রে সফল হওয়ার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আমাদের জীবন যেমন অসীম ও ব্যাপক জীবন দক্ষতাও তেমনি অসংখ্য। কিন্তু দক্ষতার মৌলিকত্ব বিবেচনায় যে দশটি জীবন দক্ষতা সনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো অন্যান্য বহু দক্ষতার ভিত্তি গড়ে দেয়। এই দশটি জীবন দক্ষতা হচ্ছে- 

1. আত্ম সচেতনতামূলক দক্ষতা। 2.সহমর্মিতার দক্ষতা, 3. অন্তঃবান্ধির প্র দক্ষতা, 4. আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা, 5. যোগাযোগ দক্ষতা। 6. চিন্তন দক্ষতা, 7. সমস্যা সমাধান দক্ষতা, 8. সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা, 9. চাপ মোকাবেলার দক্ষতা, 10. আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা। এই দক্ষতাগুলোই বলে দিচ্ছে যে, এগুলোর কোনোটিই স জীবিকা অর্জনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। এগুলো একজন ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক এ ধরনের সুস্থতাই নির্দেশ করে। একজন শিক্ষার্থীর ইতিবাচক আচরণ আত্মস্থ করার মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ এবং বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীকে সুরক্ষামূলক মে আচরণ করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করতে সমর্থ করে তোলে। এর ফলে শিক্ষার্থী ইতিবাচক আচরণ আত্মস্থ করার মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ ও বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এ শিক্ষা প্রদানে অংশগ্রহণমূলক ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শিখন শেখানো পদ্ধতি আবশ্যক। 

         কারণ এ শিক্ষা কর্মসূচির মধ্যেই প্রতিটি শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য ব্যবস্থা সন্নিবেশিত থাকে। এ কারণে এ শিক্ষা প্রদানে শিক্ষকের যথাযথ প্রশিক্ষণ একটি পূর্ব শর্ত। জীবন দক্ষতা শনাক্ত করা যায়, প্রদর্শন করা যায়, উপদক্ষতা ও অনুদক্ষতা বিভাজন করা যায় অনুকরণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা যায়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যায়। এসব কিছুই জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে সম্পাদন করা যায়। এ শিক্ষা জেন্ডারপ্রবণ, অধিকারভিত্তিক ও বয়সোপযোগী। এটি ছেলেমেয়ে উভয়ের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা প্রতিকূলতা মোকাবিলার ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। এ শিক্ষা শিক্ষার গুণগত মনোন্নয়ন করে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের উন্নয়ন সাধন করে। বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ বৃদ্ধি করে, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করে এ শিক্ষা শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশ সাধন করে এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অবদান রাখতে সক্ষম, সুস্থ, দক্ষ, নীতিবান ও বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলে সুষ্ঠ সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।


> এখন উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে যে দশটি জীবন দক্ষতার চিত্র ফুটে উঠেছে তা নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করতে পারি:

> আত্মসচেতনতামূলক দক্ষতা: 

এখানে নিজের শারীরিক ও মানসিক অ সবলতা ও দুর্বলতা, গুণাবলী ও ত্রুটিসমূহ, দায়িত্ব ও কর্তব্য, অধিকার, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা, মন-মানসিকতা, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সঠিক ধারণা সৃষ্টির সামর্থ্যতা অর্জিত হয়েছে।

 সহমর্মিতা: 

     এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী কথা মন দিয়ে শোনার সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে সহমর্মিতার চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা: 

    এখানে শিক্ষার্থী নিজের আবেগ ও চাহিদা বুঝতে পারার মাধ্যমে সততা, সত্যবাদিতা, বিনয়, সময়ানুবর্তিতা, সহনশীলতা, গরমসহিঞ্চুতা ইত্যাদি গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার মন-মানসিকতায় উভয়েই অঙ্গীকারবন্ধের মাধ্যমে অন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা প্রকাশ করে।

 আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা:

 শিক্ষার্থী নিজের যুক্তিসঙ্গত মত প্রতিষ্ঠায় অটল থাকা এবং অযৌক্তিক ও অনাকাঙ্খিত চাপ প্রত্যাখান করে নিজের বিচার-বুদ্ধির মাধ্যমে বুঝার চেষ্টা এবং সর্বোপরি তাদের মধ্যে সহপাঠি সুলভ সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখার সামর্থ্যতার মাধ্যমে আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার প্রকাশ ঘটেছে।

 যোগাযোগ দক্ষতা: 

          শিক্ষার্থী নিজেকে সঠিকভাবে প্রকাশ করার সামর্থ্যতা অর্জন করে যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার মাধ্যমে নিজের অনুভূতি সঠিকভাবে প্রকাশ করার মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

চিন্তন দক্ষতা: 

        উদাহরণ সহযোগে বোঝানো যায়, পার্কে যাবে এই নিয়ে রীতা ও সীমা এক্ষেত্রে নিজস্ব মতামত প্রদানের সামর্থ্য অর্জন ও পার্কে গেলে সময়ের অপচয় হয়ে উভয়ের লেখাপড়ার স্বাভাবিক গতি নষ্ট হবে সীমার মধ্যে এ নতুন ধারণা সৃষ্টির মাধ্যমে উভয়ের চিন্তন দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা সীমা পার্কে যাওয়ার কুফলসমূহ অনুধাবন করে তার মধ্যে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। সমস্যা সমাধান দক্ষতা রীতা বিদ্যালয় থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে পার্কে গেলে উভয়ের ক্ষতির সম্মুখীন হবে এ চিন্তা চেতনা মাথায় রেখে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সহজ ও গঠনমূলকভাবে সমস্যাটি সমাধান করার দক্ষতা রীতার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

আবেগ সামলানোর দক্ষতা: পার্কে যাওয়ার ব্যাপারে সীমার মানসিক অবস্থাকে রীতা যুক্তি দিয়ে বিচার করে উভয়ের মধ্যে সহজ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানোর দক্ষতা অর্জিত হয়েছে।

চাপ মোকাবেলার দক্ষতা: সীমা কর্তৃক রীতাকে পার্কে যাওয়ার যে চাপ এ ক্ষেত্রে সীমা তার মানসিক চাপের উৎস শনাক্ত করে সেই চাপের তীব্রতা হ্রাস প্রার সামর্থ্য অর্জন করেছে।

মূল্যায়ন: উপোরন্ত জীবন দক্ষতার উপাদানসমূহ যদি একজন শিক্ষার্থী ছাড়াও একজন সাধারণ মানুষ  তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারে তবে তিনি সব বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে  একজন পরিপূর্ণ মান্ন হিসেবে নিজেকে গাড়ে তুলে সুন্দর ও সাবলীল জীবন-যাপনের সামর্থ্য অর্থন কর বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।